সিএসই সাবজেক্টের ভবিষ্যৎ বেশ ভালো!
শর্ট কোর্সের যুগ শেষ, মিড-লেভেল স্কিলই এখন ফ্রেশার লেভেল। সিএসই পড়তে যাওয়া বা যারা পড়ছেন তাদের জন্য বাস্তব মার্কেট রিয়ালিটি, ক্যারিয়ার গাইড আর জরুরি কিছু কথা।

Hira Hasan
2026-05-18 · 12 min read
সিএসই সাবজেক্টের ভবিষ্যৎ বেশ ভালো!
কারণ ইন্টারনেটে শর্ট কোর্স করে আর টিকা যাবে না। তার মানে আপনাকে ভালো খাটতে হবে, তার মানে একদম উড়ে এসে দুই মাসের কোর্স আর তিন মাসে ফাইভার-আপওয়ার্কের যুগ শেষ, তার মানে এখন অনেকেই অনেক কম সিএসই পড়বে। তার মানে মার্কেট পেন্ডুলামের গতিতে যেদিকে আছে সেখান থেকে আবার অন্যদিকে মুভ করবে।
তবে মুভ করে আবার বেসিক CRUD করে লাখ টাকা কামানো যাবে নাকি, নাকি আপনাকে এমন সব কাজ করতে হবে যেখানে CRUDই নাই — সেটা আলোচনার বিষয়!
কিছু ইম্পরট্যান্ট জিনিস
১. ইন্টারেস্ট ছাড়া এগোনো যাবে না
আপনি যেটাতে মজা পান না সেটা আপনার করা উচিত নয়, যেখানে আপনি বছরের পর বছর লেগে থাকতে পারবেন না সেখানে যাবেন না। এটা একটা রুল। মানে বেসিক ইন্টারেস্ট থাকা লাগবে। এটা শেয়ার মার্কেট না, আপনি শর্ট সেলিং করবেন না। এমএলএম না যে আপনি স্ক্যাম করবেন। এটা ঠিক বিসিএসের মতোই — ১০০ জনে ৯৯ জন ফেল করবে। বাট ১০০ জন চেষ্টা করবে। আবার ১০০ জন চেষ্টা করবে।
২. পছন্দ চেক করার সুযোগই নাই
আমাদের দেশে আমি যা দেখেছি, আমরা নিজের পছন্দ-ইচ্ছা চেক করার সুযোগ পাই না, আমরা জুয়া খেলি, ভাইব চেক করি, মনে চাইলো একটা পিউর ম্যাথস-বেইজড সাবজেক্ট নিলাম, পরে হতাশ! আপনি হয়তো ফটোশপ পারেন, এটা দেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন সিএসই করতে হবে! ব্যাপারটা রিয়েল লাইফে এমন না।
এখন কথা হচ্ছে অন্য সাবজেক্টে কী অবস্থা? আমি বলি সেইম! সবার সেইম অবস্থা — যে NSU-তে তার BRACU ভালো লাগবে, যে DU-তে তার BUET, যে BUET-এ তার অন্য কিছু, যে EEE-তে সে CSE-তে যেতে চাইবে, এটা দুনিয়াময় সেইম! মানে আমি বলতে চাইলাম, আপনি কোন বিষয়ে আগ্রহ পান সেটা ভার্সিটি শেষ করার পরে হয়তো বুঝতে পারবেন!
আমার নিজের অভিজ্ঞতা
আমি ৩ বছর পড়েছি অ্যারোস্পেসে, পরে আমার মনে হয়েছে ফাও কাজ! আমি ফ্রিল্যান্সার হবো, আমার সিএসই পড়তে হবে। সিএসই-তে ভর্তি হবার পরে ম্যাথস আর ফিজিক্স দেখে হাসবো না কাঁদবো বুঝতাম না।
ভার্সিটি শেষ করে বুঝলাম পড়ালেখা আমাকে দিয়ে হবে না, এসব মাস্টার্স-পিএইচডি আমি করবোও না। ফিল্ডে যাই। ফিল্ডে গিয়ে দেখলাম যা অবস্থা — ৫ হাজার টাকার চাকরি, ২ হাজার টাকা খাবার বিল, ৫০০ টাকা বাইক পার্কিং! এই হল অবস্থা!
মানে আমি বলতে চাইলাম আপনার বুঝে শুনে ভর্তি হওয়া উচিত। কিন্তু ১০০০ জনের মধ্যে ১০ জনের ফ্যামিলিতে এমন এক্সপার্ট আছে যে গাইড করতে পারবে! যাদের নাই তারা ধরা খাবে — স্বাভাবিক। অনেকেই খাবে না, এটাও স্বাভাবিক।
কারা মারা খাবে না জানেন?
যারা কম পাকনা তারা, যারা ভার্সিটিতে উঠে পাকনামি করে তর্ক করবে না — "কোডে AI করে আমি হুদাই প্রবলেম সলভ করবো কেন? আমি প্রজেক্ট করবো, আমার তো ICPC করার ইচ্ছা নাই, আমি কেন DSA করবো!"
যারা এসব দ্বিধা দূরে রেখে ১০০ প্রবলেম সলভ করবে, আমি নিজে গ্যারান্টি দিলাম দেশের টপ কোম্পানিতে তাদের চাকরি হবে। তারা ফাইনাল ইয়ারে ওঠার সময় জানে কীভাবে ইন্টারভিউ ক্র্যাক করতে হবে, কীভাবে বারবার জিনিস রিপিট করতে হয়, এক দিনে-দুই দিনে কীভাবে রিভাইজ করতে হয়!
যার ৪ বছরের প্রেপ নাই, সে কীভাবে ৪ দিনে প্রেপ নেবে? প্রশ্ন পেলেও পারবে না, মুখস্থ করেও উত্তর দিতে পারবে না। AI দিয়ে কোড লিখলেও ব্যাখ্যা করতে বলা হলে পারবে না।
আপনি দেখেন আপনার চারপাশে আপনার ক্লাসে ৪০ জনের মধ্যে কোন ৪ জন সিরিয়াস?
হ্যাঁ, তারা চাইলেই মাস্টার্স করবে, চাইলেই বিসিএস করবে, চাইলেই দেশের টপ কোম্পানিতে চাকরি করবে! কারণ তারা শেয়ার মার্কেটে ইনভেস্ট করে নাই, লং টার্ম বেট করেছে! তারা অন্য হিসাব করে কোনো সাবজেক্টে ভর্তি হয় নাই, বাট কপালে যেটা জুটেছে সেটা ফাটিয়ে দিয়েছে! আমি এই ফাটানো মানুষের মতো হওয়ার জন্য বলি! অন্তত ১ বছর না খেটে একজন স্টুডেন্ট কীভাবে নিজেকে জাজ করবে?
ছাপড়ি যুগের শেষ — এটাই ভালো
আমি আসলে খুশি এই ছাপড়ি যুগের শেষে! আপনার তেল থাকলে খেলেন, না হলে নাই! এই যুগ কঠিন, সামনে আরও কঠিন হবে! দেশে আইটি কোম্পানির চেয়ে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বেশি — সেখানে ফ্লোরে ফ্লোরে ম্যানেজার দরকার হয়, ফাইন্যান্স দরকার হয়, লিডার দরকার হয়, টেকনিশিয়ান দরকার হয়, বায়ার ম্যানেজ করার মতো লোক দরকার হয়, শিপমেন্ট-প্রোকিউরমেন্টে লোক দরকার হয়!
অত কথা বাদ দেন — ১৫ লাখে এই ঘোড়ার ডিম BSc না করে তো বিকাশের দোকানে লাগান, ম্যাক্স বেটার টাকা পাবেন, টাকাই সব হলে অন্য কিছু করতে পারেন। তবে জ্ঞানভিত্তিক জায়গায় জ্ঞান না বাড়িয়ে অযথা বিজ্ঞানী হতে গেলে টাকা আসবেও না, যাবেও না!
ইন্টারভিউয়ের আসল চেহারা
আজ থেকে এক যুগ আগে থেকে গুগলে ঢুকতে আপনাকে জিজ্ঞেস করা হতো — সিস্টেম ডিজাইন কী, আপনি যেই সলিউশন ডিজাইন করেছেন এটা ফেল করবে কোথায়, এই অ্যালগরিদম ইউজ করেছেন এটার বটলনেক কী।
এগুলো মুখস্থ করলে পারবেন না, এগুলো নিয়ে পড়ে থাকা লাগে। ঝিম ধরে আপনাকে বুঝতে হবে। ডাক্তারের ওপেন হার্ট করার মতো, মনোযোগ দিয়ে বুঝতে হবে, লেগে থাকা লাগবে। ভাই, হাকাউ? হবে এগুলো?
এগুলো আমাদের দেশীয় কোম্পানি আগে জিজ্ঞেস করতো না, এগুলো এখন জিজ্ঞেস করবে! ভালোমতো করবে! আগে দেশীয় কোম্পানি ১ বছর ধরে ফ্রেশার ট্রেইন করাতো।
১০০ জন নিলে ৯০ জন বেটার স্যালারি নিয়ে অন্য কোথাও যেত! ৯০ জনের মধ্যে ৪০ জন ৫-৬ বছর চাকরি দেশে করে ভালো কোম্পানিতে বিদেশ যেত।
দেশে এখন ১ বছর ধরে কোনো পাগলও কোম্পানিতে ফ্রেশার ট্রেইন করাবে না। ঐ ১ বছর লেগে থাকা লাগবে নিজে নিজেই।
মিড লেভেল পর্যন্ত নিজেকে নিজেই টেনে নেওয়া লাগবে, এটাই বাস্তবতা!
কে পারবে, কে পারবে না
যে ছেলে এটা করার জন্য আগে থেকে প্যাশন রাখে সে পারবে। আবার যে ভুল করে হলেও কপালে পেয়েছে সেটাতে ফাটিয়ে দেবে, সেও পারবে। পারবে না জামতলার ছাপড়ি! ইন্টারনেটে রিকশাওয়ালার ওয়েব ডেভ হওয়ার গল্প শুনে ঝাঁপিয়ে পড়া ছাপড়ি জানেই না দুনিয়ায় কী হচ্ছে। ওই রিকশাওয়ালা ফাটিয়ে দেওয়া মাল! সে ওয়েব করুক আর রিকশাই চালাক, সে ভালো করবেই!
একটু আগেই এক রিকশাওয়ালা মামার গল্প শুনলাম — নানা কাজ মিলিয়ে এখন তার মাসিক ইনকাম ৪৫ হাজার টাকা! যেহেতু অন্য কাজের পাশে চালায়, সে কোম্পানির কাছে থাকা-খাওয়া পায়! ২৬ বছর চাকরি করে আর রিকশা চালায় — দুইটা জায়গা নিয়েছে রংপুরে, বেচলে কোটি টাকার উপরে দাম আছে! কেন পারছে? বিশ্বাস, হার্ড ওয়ার্ক!
এখন কিছু লোক ছাপড়ামি করতে এসে বলবে এত টাকা পেয়ে কোথাও জমি কিনতে! আমার বাসায় কাজ করে রাজুর মা! বসিলা ব্রিজ হওয়ার আগেই যেই জায়গায় জমি নিয়েছিল, তখন দুপুরবেলাতেও সেই জায়গায় মানুষ যেত না, রাজুর মা এই জায়গা বেচলে কী পাবে যারা জানেন তারা জানেন!
যুগ বদলায়, খেলা সেইম
যাই হোক, এই দুনিয়া সহজ জায়গা না, এখানে কক্স সাবান ১২ বছর চলবে না, অ্যারোমেটিক সাবানও চলবে না, রেডিও চলবে না, যুগ চেঞ্জ হবে, মোড়ক চেঞ্জ হবে, গান শুনবেন স্পটিফাইতে, সাবানের বদলে বডি ওয়াশ জেল! বেসিক সেইম!
যাই হোক, যারা ভর্তি হবেন উপরের লেখা পড়ে হতাশ হইয়েন না, সিএসই পড়ে আপনি এখনো যত জবে অ্যাপ্লাই করতে পারেন অন্য পোস্টে পারেন কিনা নিজে দেখেন, বিডিজবসে যান, যেকোনো সাইটে যান।
আর প্যাশন-ফ্যাশন না থাকলেও পারবেন। আমার অত ছিল না, যতটুকু পেরেছি হার্ড ওয়ার্ক আর কনসিসটেন্সির জোরে। আমি এখনো কিছুই পারি না, হুট করে আমাকে ট্রি উল্টানোর কোড দিলে পারবোও না! তবে আমি জানি একটু সময় পেলে নিজে নিজেই শিখে নিতে আমার খুবই কম সময় লাগবে! এটা হলো নিজের উপর নিজের বিশ্বাস!
ফাইভারে কোন জব আর নাই?
ফাইভারে দেখেন জব নাই, প্রশ্ন হচ্ছে কোন জব নাই? যেগুলো এখন ফ্রিতে করে নেওয়া যায় টোকেন দিয়ে। এখন কথা হচ্ছে কোন জব করা যায় ফ্রিতে?
- পোর্টফোলিও
- লিস্টিং সাইট
- সিঙ্গেল পেজ ই-কমার্স
- একটু চালাকি করলে মাল্টিপল পেজ ই-কমার্স
- n8n দিয়ে অটোমেশন
যারা আরও টেকনিক্যাল তারা এর চাইতেও বেশি কাজ করতে পারছেন। মানে যদি কমপ্লেক্স লেভেল ১-এর কথা চিন্তা করি, এটা done by AI।
লেভেল ২-তেও মানুষ ফাটিয়ে কাজ করছেন। লেভেল ৩-তে এখনো কোটি কোটি কাজ করা হচ্ছে না। এগুলো শুধু টোকেন দিয়ে হবে না। কমপ্লেক্স কাজ করে এমন কোম্পানি নাই এটা ঠিক, চাকরির বাজার অল্প এটাও ঠিক, খুব অল্প কোম্পানি কঠিন কাজ করে এটাও ঠিক।
কিন্তু যেটা ঠিক না সেটা হচ্ছে — জীবনে যে ছাপড়ি ১ হাজার কাস্টমার সার্ভ করেনি, তার কথা শুনে হতাশ হয়ে যাওয়া।
মিড লেভেল = নতুন ফ্রেশার লেভেল
মার্কেট কঠিন, চাকরি পাওয়া কঠিন, কারণ ওই সহজ কাজের জন্য কেউ টাকা দেবে না, টাকা দেবে আপনার যদি মিড লেভেল এক্সপার্টিজ থাকে।
বিশ্বাস করেন, আমাদের দেশের মিড লেভেল আজ পারে, চায়না-রাশিয়া-ইউরোপের স্কুলের পোলাপানের চাইতেও বেশি পারে। আমরা লিড ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বসে আছি, ১ হাজার ইউজার হলে সিস্টেম ফাটে, ফুয়েল অ্যাপ ফাটে, এসএসসি রেজাল্ট ফাটে, ন্যাশনাল স্কেলে সবকিছু ফাটে!
আমি বলতে চাচ্ছি, ৪ বছরের ভার্সিটি বা অনলাইন কোর্স কোনোটাই আপনাকে চাকরি দেবে না, ইভেন আমার কোনো কোর্স করলেও চাকরি হবে না, চাকরি পেলেও গ্রোথ পাবেন না।
আপনি যেটাই করেন মন দিয়ে করেন, তাহলে সমাজবিজ্ঞান পড়েও বরকত পাবেন!
ভর্তি হওয়ার আগে যা ভাবা উচিত
যারা এর মধ্যে সিএসই-তে ভর্তি হয়েছেন, জেনে রাখুন উপরের সবকিছুই সত্য! দুনিয়া কঠিন, যারা ভর্তি হবেন বলে ভাবছেন জেনে রাখেন শুধু CSE কেন, সব সাবজেক্টই সেইম! নিজে ভালো করতে না পারলে সবকিছুই কঠিন!
ভর্তি কেন হবেন, পাশ করলে বেয়ার মিনিমাম কোন জিনিসটা অন্তত আপনি নিতে পারবেন সেটাও ভেবে রাখুন! আপনি মারা খাবেন যেই সাবজেক্টেই ভর্তি হন না কেন (আপনি টপ ৫-১০ পার্সেন্ট না হলে), বারবার মারা খাওয়ার পরেও কোন জিনিসটা আপনার জানা থাকলে জীবনে সুবিধা করতে পারবেন সেটা নিয়ে একটু ম্যাপ করে রাখেন।
ল্যাং-ধ্যাং-ব্যাং করলে ডাক্তারি করলেও বকের ঠ্যাং, মাস্টারিও বকের ঠ্যাং!
যারা চাকরি খুঁজছেন
যারা এখনো চাকরি পান নাই, ভাবুন আপনি কি আসলেই last ১ বছর খেটেছেন? কোম্পানি মিড হায়ার করবে! ওই লেভেলে খেলা শিখুন!
সিনিয়র প্যানিক দিলে জেনে নেন তার কাজের বয়স কত! আপনার কত? তার মাসিক টোকেন খরচ ১০-২০-৩০ হাজার, আপনার কত? আপনি নিজে এক মাসে ৩০ হাজার টাকার টোকেন শেষ করতে পারবেন?
পারতে গেলে কী কী করা লাগবে? টোকেন খেয়েও কি আপনি ঠিকঠাক কাজ করতে পারছেন? সেটাও রিচেক করবেন। আপনি ফলাফল পেলে খাটবেন, চাকরি পাওয়ার পরে খাটবেন — একটা সিরিয়াস প্রশ্নের উত্তর দেন, ভার্সিটিতে আপনি কি ওই দলে ছিলেন? এক এক গ্রুপে আপনি কনফিউজড করতেন? কোডিং করার টাইমে প্রজেক্ট, প্রজেক্ট করার টাইমে লিটকোড, আর চাকরি পাওয়ার টাইমে AI ফিয়ার মঙ্গারিং?
ভালো হয়ে যাও মাসুদ!
সিনিয়রদের প্রতি অনুরোধ
যারা চাকরি পেয়ে গেছেন! ৪-৫ বছর বা ৭-৮ বছর হয়ে গেছে, ভাবুন আপনি যেই টোকেন দিয়ে বিশাল বিশাল জিনিস বানাতে পারছেন, যারা এখনো চাকরিতে ঢোকেনি তারা কি পারবে? না পারলে প্যানিক দেন না, জুনিয়র কীভাবে অ্যাডাপ্ট করবে সেটা দেখান!
সবার ক্রেডিট কার্ড নাই, পারলে একটা জুনিয়রের দায়িত্ব নেন!
সব কথার শেষ কথা
কোডিং কোর্স করে, ফ্রেশার প্রিপেয়ার করে যে মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা মার্কেটে ছিল সেটা নাই! ফ্রেশার হায়ার নাই, এটা বলতে অনেকেই লজ্জা পাচ্ছেন, পাবেন না।
সব মিলিয়ে ৪০-৫০ জনের টিম চালাই, আমার সাহস নাই ১ বছর একটা জিরো স্কিলড কাউকে স্পুন ফিডিং করার! মার্কেট এখন মিড লেভেল ডিমান্ড করে, এটাই এখন ফ্রেশার লেভেল (আগেই বলেছি আমাদের দেশের মিড লেভেল বাইরের অনেক টিমে এখন ফ্রেশার! আমার নিজের জন্যেও তাই, দেশে আমি যেই রোল পাবো দুনিয়ার টপ ১০০০ কোম্পানিতেও সেটা পাবো না)।
আরও একটা কথা, ইন্টারভিউ নিজে last ৫ বছরে অ্যাটেন্ড না করে বা মার্কেট রিসার্চ না করে কোর্স অফার করলে এখন গালি খাওয়া স্বাভাবিক।
আমার প্রমিস
একটা প্রমিস করে রাখি, পকেটস্কুলের এই কোর্স ব্রেক ইভেন পার করলে অফ করে দিবো! আর সেলফ লার্নার না হলে প্লিজ এই কোর্স নেবেন না, এটাও বিগিনার কোর্স না!
ইনফ্যাক্ট আপনি নেন না নেন, যা ইচ্ছা করেন, আমি এইটা বেচে খাইতে ২০১১ থেকে খাঁটি না! ব্রো! গ্রো আপ! আল্লাহ রিজিকের মালিক! মালিক আমারে যা যা দিছেন enough to survive!
২২ বছর লেখাপড়া করেছেন, এর মধ্যে কেউই আপনার চাকরি দিবে বলে টাকা নেয় নাই। ভার্সিটি শেষ করে তিন মাসে শর্ট সেলিং করবেন সেই আশায় আমার কেন, দুনিয়ার কোনো কোর্সই নেবেন না, কাজ হবে না।
আমি চেষ্টা করি মাত্র! টিকে থাকতে যেই স্কিলস অ্যান্ড প্র্যাকটিস আমি করি সেগুলো ভিডিও দিয়ে বুঝাই, স্কিলসের চাইতেও ইম্পরট্যান্ট হচ্ছে শেয়ার্ড এক্সপেরিয়েন্স — ওইটা যার ভালো লাগে নিবেন, না হলে মাফ করেন! সবাই আমার কথা বুঝবেনও না, যে বুঝে সে নেবেন। জোর করে কেউ একজন বলেছে আমার কোর্স ভালো করলেই চাকরি — যে বলবে সে ফাত্রা!
মাফ করবেন! দেশে এই টক্সিক কালচার জানলে বাংলা কনটেন্ট করতাম না, মাঝে মাঝে মনে হয় নিজের উপরেও জুলুম করছি! ভালো থাকবেন সবাই!
পুরো আলোচনাটা ইউটিউবে দেখুন
পড়ার চেয়ে দেখতে বেশি ভালো লাগে? পুরো বিষয়টা আমি আমার ইউটিউব চ্যানেলে বিস্তারিত আলোচনা করেছি — রিয়েল উদাহরণ আর পার্সোনাল অভিজ্ঞতা দিয়ে।
